১৮৬৩ সালে ভোপালের দেশীয় রাজ্যের শাসক নবাব সিকান্দার বেগম এমন এক সফরে বের হন, যা ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেয়। হজ পালনকারী প্রথম ভারতীয় রাজশাসক হন তিনি।
বিপদসংকুল এক সফর
সে সময় হজের সফর ছিল বিপদসংকুল—সমুদ্রের ঝড়, বেদুইনদের হামলা ও রোগব্যাধির আশঙ্কা ছিল যাত্রাপথে। তবু তাঁর সংকল্প ছিল অটল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১,০০০ জনের একটি বহর; তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর মা ও মেয়ে।
হজের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করা
সিকান্দার বেগম ছিলেন তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষক ও লেখক। তিনি এ পিলগ্রিমেজ টু মক্কা নামে একটি স্মৃতিকথা লিখেছিলেন, যা উনিশ শতকের হজের অভিজ্ঞতার একটি বিরল ও বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে। তাঁর লেখায় হেজাজের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
পবিত্র নগরীগুলোতে অবদান
তিনি শুধু হজযাত্রী ছিলেন না; ধর্মীয় স্থানগুলোর পৃষ্ঠপোষকও ছিলেন। তিনি উদার হাতে দান-সদকা বিতরণ করেন এবং ধর্মীয় স্থানগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের কাজের উদ্যোগ নেন।
নারী নেতৃত্বের উত্তরাধিকার
ভোপালের বেগমরা দৃঢ় ও প্রজ্ঞাপূর্ণ শাসনের জন্য পরিচিত ছিলেন। সিকান্দার বেগমের হজযাত্রা ইতিহাসজুড়ে মুসলিম নারী নেতৃত্বের সাহস ও ধর্মনিষ্ঠার দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
