মিসরের সাঈদ নামে এক সাধাসিধে মানুষকে ঘিরে আলেমদের মুখে প্রায়ই শোনা যায় একটি বহুল পরিচিত সমকালীন কাহিনি।

নিয়ত

হজ আদায় করার জন্য সাঈদ বহু বছর ধরে টাকা জমিয়েছিলেন। রওনা হওয়ার ঠিক আগে তাঁর এক প্রতিবেশী চরম বিপদে পড়লেন—এক বিধবা নারী সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।

ত্যাগ

তাঁদের দুর্দশা দেখে সাঈদের মন কেঁদে উঠল। নিজের আজীবনের স্বপ্নের চেয়েও তাঁদের কষ্ট লাঘব করাকে বড় মনে করে তিনি গোপনে তাঁর হজের সঞ্চয়ের পুরোটা সেই বিধবাকে দিয়ে দিলেন। তিনি কাউকে কিছু জানালেন না।

অলৌকিক ঘটনা

হজযাত্রীরা ফিরে এলে সাঈদ হতবাক হয়ে দেখলেন, তাঁরা তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন: “হজ মাবরুর, সাঈদ! আমরা আপনাকে আরাফাতে দেখেছি! মিনাতেও দেখেছি!”

সাঈদ বিভ্রান্ত হয়ে গেলেন; তিনি তো মিসর ছেড়েই যাননি।

স্বপ্ন

বলা হয়, এক নেককার ব্যক্তি স্বপ্নে নবীজি (সা.)-কে দেখেছিলেন। তিনি তাঁকে বলেছিলেন: “সাঈদ হজে না গেলেও আল্লাহ তাঁর হজ কবুল করেছেন। তাঁর দানের কারণে আল্লাহ তাঁরই আদলে একজন ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন, যে তাঁর পক্ষ থেকে হজ আদায় করেছে।”

হজের ২০ বছর

এরপর অলৌকিক উপায়ে এবং অপ্রত্যাশিত উপহার পেয়ে সাঈদ তাঁর জীবনের পরবর্তী ২০ বছর সশরীরে হজ আদায় করার সুযোগ পান।

এই কাহিনি আমাদের শেখায়, খাঁটি হৃদয় থেকে করা দান কখনো কখনো হজের শারীরিক ইবাদতের চেয়েও বেশি মর্যাদা পেতে পারে। আল্লাহ শুধু দেহের দিকে নয়, অন্তরের দিকেও তাকান।